সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে

সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানিতে শুল্ক শূন্য, উৎপাদন খরচ কমতে পারে ২৫-৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কর– সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ঘোষণা দেন, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি খাতের বিকাশে সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট উপকরণ— আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর— সবই শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, এই শুল্ক-কর প্রত্যাহারের ফলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুল্ক সুবিধার ফলে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কর-ভার হ্রাস পেতে পারে।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন গতি আনবে।

সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আন্তরিকতার প্রতিফলন। এতে শিল্প ও আবাসিক পর্যায়েও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে।’’

তবে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক এবং এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের পর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে দেশীয় উৎপাদন শিল্প গড়ে ওঠে।

অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি শিল্প— বিশেষ করে লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে কর সুবিধা ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানিকে দেওয়া সুবিধা থেকে সরকার সরে আসছে— এটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত বজায় রাখা উচিত, নইলে বিনিয়োগে ধীরগতি আসতে পারে।

বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশি–বিদেশি ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।