পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি খাত এবং ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) শিল্পের বিকাশে ব্যাপক কর রেয়াত ও নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়।
সৌরবিদ্যুৎ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর শূন্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়।
তবে দেশীয় শিল্প বিকাশে সহায়তা দিতে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) শিল্পেও বিনিয়োগ আকর্ষণে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ-তে ইভি রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর কমিয়ে গাড়ির ক্ষমতার ভিত্তিতে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া চার চাকা ও তিন চাকার ইভি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয়ভাবে বডি নির্মাণ, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও অ্যাসেম্বলিং কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন হারে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় সম্পূর্ণ শুল্ক-কর মওকুফের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের ক্ষেত্রেও কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশের বেশি ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক-কর থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে।
একইসঙ্গে ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের জন্যও রেয়াতি সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব কর সুবিধা ও নীতি সহায়তা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।