কৌশলে ভুল ওষুধ দিয়ে স্ত্রী মাহফুজা আক্তার সুবর্ণার এক চোখ নষ্ট করেন সুরুজ আলী খান। এ ঘটনার সাত মাস পর পরিকল্পনা করে স্ত্রী ওপর এসিড নিক্ষেপ করান সুরুজ। রবিবার দুপুরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন সুরুজ।
সুরুজ জানান, নিষেধ না মেনে চাকরি করার জন্যই স্ত্রী সুবর্ণার ওপর এসিড হামলা করিয়েছেন। এই হামলায় তাকে সহযোগিতা করেছেন ধানমণ্ডির ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রিপন ও অপর এক যুবক। এরই মধ্যে ওয়ার্ডবয় রিপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও একজনের খোঁজ চলছে।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এসিড হামলার জন্য রিপনকে ১২ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তিনি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, মিষ্টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) ভোরে রূপনগরের বাসার দরজায় কড়া নাড়েন রিপন। সুরুজ নিজেই দরজা খুলে দেন। ঘরের ভেতরে এসে স্ত্রী সুবর্ণাকে সুরুজ জানায় তাদের গ্রামের বাড়ি থেকে মেহমান এসেছেন। স্ত্রী মেহমানদের দেখে সুরুজকে জানায় মেহমানদের তিনি চেনেন না। তখন স্বামী সুরুজের সামনেই সুবর্ণার ওপর এসিড হামলা চালায় রিপন। এসময় তাদের শিশুসন্তান সানজিদা আক্তারও দগ্ধ হয়। সুবর্ণাকে বাঁচাতে গিয়ে সুরুজের দ্বিতীয় স্ত্রী নিলুফাও দগ্ধ হন। ঘটনার সময় সুরুজের হাতেও সামান্য এসিড লাগে।
তিনি আরও জানান, গত ছয় সাত মাস আগে সুবর্ণার চোখে সমস্যা হলে সুরুজ তাকে ধানমণ্ডির ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কারণ সুরুজের এলাকার রিপন ওই হাসপাতালে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কাজ করেন। রিপনের সাহায্যে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ পরিবর্তন করে অন্য ওষুধ নিয়ে যায় সুরুজ। এতে সুবর্ণার একচোখ নষ্ট হয়ে যায়।
স্ত্রীর ওপর এভাবে বারবার হামলা করার কারণ হিসাবে আদালতকে সুরুজ বলেন, ‘স্ত্রীকে চাকরি করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে শোনেনি। তাই তাকে অচল করে ঘরে বসিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম।’
ঘটনার পর সুবর্ণার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুরুজকে আটক করে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সুবর্ণা তার স্বামী সুরুজ ও অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করে রূপনগর থানায় মামলা করেন। এরপর আটক করা হয় সুরুজকে।
শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমিনুর রহমান আসামি সুরুজকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে সুরুজ দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে আদালতে হাজির করে আসামির জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মমিনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুরুজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সুরুজ নিজেই। তার পরিকল্পনায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে রিপন নামে একজন জড়িত। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
সুবর্ণা বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। এসিডে তার মুখ ঝলসে যাওয়ার পাশাপাশি দু চোখই নষ্ট হয়ে গেছে।
সুবর্ণা জানান, সুরুজ ভরণপোষণ দিত না। তাই বাধ্য হয়ে চাকরি করতে হয়েছে তাকে। চাকরি নিয়ে সুরুজের সঙ্গে মনোমালিন্য হলেও একসময় সে দাবি করছিলো, চাকরি করলে তাকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। সুবর্ণাসহ সুরুজের তিন স্ত্রী। কোনও স্ত্রীকেই ভরণপোষণ দেন না তিনি।
/এআরআর/এমও/এসটি/