দিল্লির বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে হেনস্তার শিকার হয়ে ভারতে প্রবেশ না করেই দেশে ফিরে এলেও প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক বৈরি করার পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বরং দেশের স্বার্থে এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের জোরালো সম্পৃক্ততা (এনগেজমেন্ট) থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। সবার আগে বাংলাদেশ।” তবে তিনি মনে করেন, সার্বভৌমত্ব ও সমমর্যাদা বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ একাধিক জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারতের সঙ্গে এনগেজ হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।
গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন
ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সবচেয়ে জরুরি তাগিদ হিসেবে গঙ্গা নদীর পানি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মনে করিয়ে দেন, “গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে।” বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে এই পানি চুক্তিটি সুষ্ঠুভাবে রিনিউ বা নবায়ন করার জন্য ভারতের সঙ্গে অতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে আলোচনা চালানো প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
তিস্তা চুক্তি ও অভিন্ন ৫৩ নদীর হিস্যা
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারতের সঙ্গে কথা বলার ওপর জোর দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিস্তা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে থাকা বাকি অভিন্ন নদীগুলোর অধিকার নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের পানি, আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টা নদী আছে। সেখানে আমাদের রাইট (অধিকার) আছে।” এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক দরকষাকষি চালিয়ে যাওয়ার কোনও বিকল্প নেই।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বহুমুখী বিনিময়
অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমাদের এক্সচেঞ্জ (বিনিময়) নানান ফর্মে হতে পারে।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে কিছুটা খারাপ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে নতুন করে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
‘প্রোপার ইনভিটেশন পেলে আবারও ভারতে যাবো’
দিল্লি এয়ারপোর্টের ঘটনাটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে না নিয়ে এটিকে রাষ্ট্রীয় পদের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দেশের পানি ও বাণিজ্য স্বার্থে যদি ভূমিকা রাখার সুযোগ আসে, তবে তিনি আবারও ভারতে যেতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, “আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি— আমি যদি প্রোপার ইনভিটেশন (যথাযথ আমন্ত্রণ) পাই, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি।” ভারতের সঙ্গে এসব জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে যদি কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়, তবে দেশের স্বার্থে তিনি তা লুফে নেবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।