ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক ৩৬টি ‘পুশইন’ করার চেষ্টাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে পুশইনকৃত ২ হাজার ৩৬৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি বিএসএফ কর্তৃক পুশইনকৃত ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে বিএসএফের নিকট ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ৭ মে থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৮৬০ জনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বিএসএফ-কে মরণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের জন্য নিয়মিত অনুরোধ করা হচ্ছে। ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে রাত বা ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে অপরাধ ঠেকাতে থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং সিসিটিভি দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা হচ্ছে।”
বিজিবির কঠোর নজরদারির ফলে গত এক বছরে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত এক বছরে সীমান্ত এলাকা থেকে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪৩৬ পিস ইয়াবা, ৫৫ হাজার ৯০৮ বোতল ফেনসিডিল এবং ১ লক্ষ ৬ হাজার ৭০৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।”
এছাড়া উচ্চমাত্রার মরণঘাতী মাদক ক্রিস্টাল মেথ আইস ১৫ দশমিক ৭৭৭ কেজি, ২ দশমিক ৮ কেজি কোকেন এবং ৬২ বোতল এলএসডি আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক এবং ১ হাজার ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুশইন ও চোরাকারবারীদের রুখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। সীমান্তে হাই-রিস্ক জোনগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।