‘ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে ১ ঘণ্টা আলোচনা, ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক মানে একটি দেশ নয়, একটি ব্যাংক। এই ব্যাংক নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘সিগারেট ও মদের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে, মানুষকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য। সিআইপি রিপোর্ট অনুযায়ী সংসদ চলাকালে প্রতি মিনিটে খরচ হয় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ইসলামী ব্যাংক মানে একটি দেশ নয়, ইসলামী ব্যাংক মানে একটি ব্যাংক। যে ব্যাংক নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।’

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সিগারেট ও মদের বিষয়ে ওই পাশ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ট্রেজারি বেঞ্চে যারা বসে তাদের অভ্যাস, তারা খায়—তাই এগুলো এখনও রাখা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহই জানেন কার কী অভ্যাস আছে। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনারা বিগত দিনে মুতাবিয়ার কথা শুনেছেন। মুতাবিয়া কী জিনিস, মাননীয় স্পিকার, আপনার কাছে আমি একটু জানতে চাই। মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন এই বাজেট নিয়ে। সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে এক নারীসহ ধরা পড়লেন মুতাবিয়ার নামে (পরে সংসদে সংশোধন করে নারায়ণগঞ্জ বলা হয়), আসলে সেটা কী ছিল আমি জানি না। ছাত্রশিবির নেতা জিসান—যাক, এই ইতিহাসও আপনারা জানেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলার অনেক অবনতি হয়েছিল। অর্থনীতিও তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছিল।’

বর্তমান সরকারের চার মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই চার মাসের মধ্যেই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করেছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করেছে। বিরোধী দল থেকে এখনও বলা হয়, তাদের কথার বাইরে গেলে আন্দোলন হবে। কিন্তু বিএনপির জন্ম হয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে। বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’

এরপর তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকার সমস্যা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে আমার এলাকার দু-একটি সমস্যার কথা বলবো। ঢাকা শহর এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে।’