ফল পাল্টানোর অভিযোগ: নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ইসিতে শুনানি

নির্বাচন কমিশনসাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারকে ঢাকায় তলব করে শুনানি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।ওই ইউপির একজন পরাজিত প্রার্থী রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ফল পাল্টানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করলে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী সোমবার এ শুনানি করেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রমজাননগর ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী ১৮ ভোটে বিজয়ী হন। কিন্তু পরে রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ আল মামুনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা (উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা) সনজয় বিশ্বাস।
এর আগে রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করা ফলাফল সিটে দেখা যায়, ২৬০৫টি ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আকবর আলী পান ৫৮৪ ভোট আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পান ১৩১১ ভোট। ওই ফলাফল সিটে পোলিং এজেন্টদেরও স্বাক্ষর নিয়ে তাদের কাছে সরবরাহও করা হয়।পরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্র ত্যাগ করলে প্রিজাইডিং অফিসার নতুন করে ফলাফল তৈরি করেন। সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে দেখানো হয় ৫৫৭ ভোট আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ১৩৩৫ ভোট।ভোটের দিন রাতে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে শুনানিতে তথ্য পেয়েছে কমিশন।
ইসিতে পাঠানো চূড়ান্ত হিসাবে দেখা যায়,রমজাননগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৭ হাজার ৫২২ জন। ভোট দিয়েছেন ১৪ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আল মামুন পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯৪ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আকবর আলী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬১ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলুল হক মোড়ল পান ১ হাজার ৯৫৪ ভোট। ৩৩ ভোটে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে কমিশন শুনানির আয়োজন করে। সোমবার কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী সনজয় বিশ্বাস, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মুন্সী আবদুর রব ও বিএনপির প্রার্থীর আকবর আলীর শুনানি গ্রহণ করেন।

জানতে চাইলে জেসমিন টুলী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার দাবি, বিজয়ী প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত তিনি দ্বিতীয়বার গণনা করলে ফল বদলে যায়। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ,দ্বিতীয়বার গণনার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন না। যে কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার দাবি সন্তোষজনক বলে মনে হয়নি। ফলাফল বিবরণীতে ঘষামাজার বিষয়েও তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। 

ইএইচএস/এমএসএম