বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়ার বেনগাজী থেকে আরও ১৭৩ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ২৪ জুন বেনগাজী থেকে রওনা হন এবং আগামীকাল ২৫ জুন ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করছে লিবিয়ার ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস। প্রত্যাবাসিত সব বাংলাদেশি নাগরিক বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বেনগাজী সফরকালে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ সংস্থার ডেপুটি প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেনগাজীসহ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ এবং তাদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় মান্যবর রাষ্ট্রদূত গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন এবং সেখানে আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে তিনি সেখানে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাসের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। এছাড়া তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি, এর নেতিবাচক প্রভাব, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতি এবং দেশের ভাবমূর্তির ওপর এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন। পাশাপাশি দেশে ফিরে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও তাদের পরামর্শ প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের অনুকূলে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
এছাড়া গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত আইওএম লিবিয়ার বেনগাজী আঞ্চলিক পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আইওএম-এর সহযোগিতা কামনা করেন। উভয় পক্ষ এই বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতায় প্রথম ধাপে বর্ণিত ১৭৩ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়েছে। তারা আজ সকালে দেশে এসে পৌঁছাবেন। অবশিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।