প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, এই বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে— সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বিনিয়োগের বাংলাদেশ এবং সবাইকে নিয়ে অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘দেশের সব শ্রেণির মানুষের প্রতিচ্ছবি এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।’’
রবিবার (২৮ জুন) সকালে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি (সিবিপি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘‘ইয়থ ইন ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭” এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ’’ শীর্ষক নীতি-সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে ‘তরুণরাই বলবে তরুণদের কথা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত ক্ষেত্রের তরুণ প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘‘আমরা যেকোনও বাজেট আলোচনা করার ক্ষেত্রে সংখ্যা ব্যবহার করি, অথবা এটাকে নিছক আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখি। আমাদের যে প্রশ্নটা করা দরকার, বাজেটের দর্শনটা কী? বাজেটের লক্ষ্য কী? বাজেটের কর্মপদ্ধতি কী? এবং বাজেটের সাথে আসলে জনগণের সম্পর্ক কী? কারণ বাজেট হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপ্লব হয়েছিল সেই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিল ‘নো ট্যাক্সেশন উইদাউট রিপ্রেজেন্টেশন’ অর্থাৎ আমার প্রতিনিধি ছাড়া আমি কোনও কর দেবো না। তার মানে বাজেট নিতান্তই এবং সর্বাঙ্গীণভাবেই একটা রাজনৈতিক বিষয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘কারণ আপনারা যদি খেয়াল করেন সংবিধানে বাজেট কীভাবে তৈরি হয় এবং বাজেট কীভাবে উপস্থাপিত হবে এবং বাজেট অর্থাৎ জনগণের অর্থ কীভাবে আয় করা হবে এবং জনগণের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে— তার নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং সেই অনুযায়ী আসলে বাজেট প্রণীত হয়। এখন তাহলে বাজেটে রাজনৈতিক দর্শন কী? এই বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে— সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বিনিয়োগের বাংলাদেশ এবং সবাইকে নিয়ে অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ। খেয়াল করলেই দেখবেন, আপনার মুখচ্ছবি এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।’’
উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আপনি যেকোনও শ্রেণির হতে পারেন, যেকোনও পেশার হতে পারেন, যেকোনও খাতের হতে পারেন, যেকোনও বয়সের হতে পারেন। আপনি যদি দেখেন তাহলে দেখবেন যে, সর্বজনের অর্থনীতি অর্থাৎ হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। এই যে দার্শনিক ভিত্তি, এই দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সর্বজনের অর্থনীতির জন্যই এই বাজেটটি প্রণীত হয়েছে। যার কারণে সব শ্রেণির সব পেশার সব খাতের সব বয়সের মানুষের প্রতিচ্ছবি এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনাদের মনে আছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন— গণতান্ত্রিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র, এটা হচ্ছে তাঁর ভিশন। এবং তিনি বলেছিলেন যে, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। সেই প্ল্যানের অংশ অর্থাৎ আমার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পঞ্চবার্ষিকী অর্থনৈতিক কৌশল তৈরি হয়েছে এবং যে কৌশলকে আমরা বলছি হচ্ছে ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’। তার মানে একটা কৌশলের ভিত্তিতে একটা দর্শন একটা ভিশন এবং একটা কৌশলের ভিত্তিতে এই বাজেটটি প্রণীত হয়েছে। এবং বাজেটটি কৌশলটা নিতে হয়েছে দেশোপযোগী আমাদের দেশের সাথে বর্তমানের বাস্তবতার সাথে।’’
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘‘আজকের তিনটি বিষয় আলোচিত হওয়ার জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। প্রথম বিষয় হচ্ছে, যুবকদের কর্মসংস্থান, দ্বিতীয় বিষয় উদ্যোক্তা এবং তৃতীয় শিক্ষা। আমরা এই তিনটি বিষয় কীভাবে বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবো তা নিয়েই আলোচনা। কারণ সংশয় থাকা যেকোনও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন। সন্দেহ থাকা যেকোনও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন। কোনও বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করা শিক্ষার্থীর প্রয়োজন।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা ফ্যাসিস্ট আমলে নাই যেখানে প্রশ্ন করা যেতো না। যেখানে আপনাকে বলা হতো যে, আপনি এই কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করবেন। তাহলে তার ফলাফল কিন্তু আমরা জানি পালিয়ে যেতে পারে। সেই জন্য আপনাদের এখানে সব বিষয়ের মধ্যে আমরা যা বলছি— তা আমরা কি প্রশ্ন করতে শিখছি কিনা এবং প্রশ্ন করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারছি ক না, তার মাধ্যমেই তো সামাজিক চুক্তি নিশ্চিত হবে।’’
সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।