জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতিকে বিভক্ত করে কোনওভাবেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। তবে তার অর্থ এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করা হবে। প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মতান্ত্রিক বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়; এটি দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, সেই পথ অনুসরণ করা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান না। দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই ভবিষ্যতে কোনও অপশক্তি যেন দেশ গঠনের এই লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশ সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারলে ভবিষ্যতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা গর্ব করে বলতে পারবেন, তাদের স্বজনদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।