‘সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ উপেক্ষার সুযোগ নেই, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে’

সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টেরসহ (পিজিআর) প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআর’র পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পিজিআরের সাবেক এবং বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা এবং সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজজামানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনও বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের আরও প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফ’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকেও সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির সম্মুখীন হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য– এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বদা আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিজিআর’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা, আমার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তার শাহাদাৎ বরণের সময় কর্তব্যরত পিজিআর’র কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি সেসব শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়নতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআর’র সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই নতুন নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী এবং গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় এবং অনুপ্রেণামূলক নাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মা দুজনই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদের রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় সঙ্গতকারণেই পিজিআর’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমি কিশোর বেলা থেকেই পরিচিত। পিজিআর’র কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদের নানারকমের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা দায়িত্ববোধ এবং কর্ত্বব্যপরায়ণতার বৈশিষ্ট  আপনাদের নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে। তিনি তাদের নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনার কথা জানান।