শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদারের আহ্বান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি দ্রুত নিয়োজন সক্ষমতা যাচাই এবং নতুন মিশনে বাংলাদেশি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের ওপরও জোর দেন তিনি।

সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনসের (ডিপিও) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান, দ্রুত নিয়োজন সক্ষমতা বা র‌্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) যাচাই, কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘ সদর দফতর ও মাঠপর্যায়ে নীতিনির্ধারণী পদে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) মোতায়েন এবং বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, পুলিশ অবদানকারী শীর্ষ দেশগুলোর একটি হিসাবে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং কার্যকারিতা বাড়াতে নানামুখী বিনিয়োগ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের দ্রুত সাড়াদানের সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের র‌্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল যাচাইয়ের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইউনিট দুটি জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক প্রধান সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলে সুসজ্জিত। দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে ডিপিওর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে গত বছরের অক্টোবরে স্বল্প সময়ের নোটিশে কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বা দক্ষিণ সুদানের মতো অন্য মিশনগুলোতে বিভিন্ন দেশের ইউনিট আনুপাতিক হারে কমানো হলেও কঙ্গোতে শুধু বাংলাদেশের পুরো ইউনিটই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নতুন একটি বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। নীতিনির্ধারণী পদে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর দাবি শান্তিরক্ষা মিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সদর দফতর ও বিভিন্ন মিশনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশেষায়িত পেশাদার পদে—বিশেষত পি-লেভেল ও ডি-লেভেল পদে—যোগ্য বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত শান্তিরক্ষা চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম যোগ্য পুরুষ ও নারী কর্মকর্তা দিতে বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (সাট) পরীক্ষায় ১০৭ জন কর্মকর্তা উত্তীর্ণ হলেও এখনও ৮৫ জন মোতায়েনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে বাংলাদেশি আইপিওর সংখ্যা তুলনামূলক কম উল্লেখ করে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ অপেক্ষমান কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া বর্তমান তালিকার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের সময়োচিত সহযোগিতাও কামনা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা জাতিসংঘের জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনে ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ এবং বিশেষায়িত পুলিশ দল গঠনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।