প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান প্রধান উৎপাদন এলাকায় আরও ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ (এয়ার ফ্লো) মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। এদিন সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক বাস্তবমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরসহ পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে ৯০০টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি সংরক্ষণ ঘরের ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ১২ টন। এসব সংরক্ষণাগার কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে সহায়তা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারসংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের পচনশীলতা কমানো সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফরিদপুরসহ দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় মোট ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।