সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

কলকারখানার কারণে যেভাবে পরিবেশের দূষণ হচ্ছে, এর জন্য আমাদের সবারই দায় আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশ সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা হচ্ছে, তবে এটি কাম্য নয়। সব কিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।”  

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায়। 

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।  

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। তবে কোন পরিবেশে কেমন গাছ লাগাতে হবে, এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।” এ সময় ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।”  

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য তালিকায় ঢাকা তৃতীয়। এ নিয়ে আমাদের সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অনেক মানুষ অজ্ঞ। তাদের সচেতন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”  

তারেক রহমান বলেন, “সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি।” লন্ডনেও এমনটি করা হয় বলে তিনি জানান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম এবং ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই।” এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। 

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।  

উল্লেখ্য, রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।  

এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।