মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশি নিহত, সংসদে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনেরি ২২তম দিন প্রশ্নাত্তর পর্বে সরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও আটজন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ হতে প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহত ১২ বাংলাদেশির মধ্যে এক জনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯ জনের লাশ দেশে আনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের অনুকূলে লাশ দাফন বাবদ বিমানবন্দর হতে ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে নিহত হওয়ায় বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুজন এবং ইরাকে ও বাহরাইনে একজন করে নিহত হয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর হতে অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বহরে দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিমানবন্দরে আরও দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত, অসুস্থ প্রবাসী কর্মীদের বিমানে ওঠা-নামার সুবিধার্থে ১০টি হুইল চেয়ারও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী লাউঞ্জ স্থাপন ও ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্টে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিক্যাল কর্নার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।