‘বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির নিয়মিত তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী’

দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তার বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করছেন। একইসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন— এই তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রবিবার (১২ জুলাই) দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে বন্যা ও পাহাড় ধসসহ সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন মাহদী আমিন। সে সময় তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই পাঁচ জেলায় জনজীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ চলছে।

শুক্রবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং কীভাবে তাদের সহায়তা করতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, রবিবার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের মতামত নেবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার কার্যক্রমে ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ওসি পর্যন্ত সবাইকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন। রাজনৈতিক নেতারাও তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন। দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে এবং যারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে চাল পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতাকর্মীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন।

মাহদী আমিন জানান, এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যার কারণে যোগাযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও স্থানীয় নেতাকর্মী, সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের সুরক্ষায় কাজ করছেন।

তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একইসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুর্যোগের সময় সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যা যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। সবাইকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।