দেশের কত শতাংশ মানুষ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

২০১৮-১৯ সালের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনও না কোনও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনও ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না বলেও জানান মন্ত্রী।   

সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান।  

বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।   

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা বর্তমানে অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। যদিও মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে হৃদরোগ ও ক্যান্সার এখনও শীর্ষে রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে মানসিক রোগ অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।”  

মন্ত্রী জানান, ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনও না কোনও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনও ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না।   

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। দেশে প্রতি ১ লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন। এই ঘাটতি পূরণে সরকার-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে দেশের প্রধান বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে।”  

মন্ত্রী জানান, ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরে মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা পরিচালক (ডিরেক্টর অব মেন্টাল হেলথ) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রামের আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম-এই ১০টি জেলায় মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ— এই ৪টি জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ (এসআইএমএইচ) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিশ্বের নির্বাচিত ৯টি দেশের একটি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  

মন্ত্রী আরও জানান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শসেবা দেওয়া হচ্ছে।