প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা বাড়াতে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মামুন হাসান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকালে কানাডার রাজধানী অটোয়ায় কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির (সিএফআইএ) কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধিদলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং উপপরিচালক মো. শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি সেবা, পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ নজরদারি, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস ব্যবস্থা— অর্থাৎ খাদ্য, প্রাণী ও উদ্ভিদস্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়েও উভয়পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে প্রাণিজ পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধি, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক পরীক্ষাগার ও খাদ্য পরিদর্শনব্যবস্থা গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য এবং নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়বে।”
বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।