বাংলাদেশে আর যেন কোনও ধরনের ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ শুধু রাজনীতি ও অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটিয়েছে।”
এসব মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘ফ্যাসিবাদে ধ্বংস হয়েছে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের আমলে যেভাবে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে, সংগঠনকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা খাত।”
তিনি অভিযোগ করেন, “কীভাবে সেই সময় নকলকে উৎসাহিত করা হয়েছিল, কীভাবে অটো প্রমোশন দিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।”
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অন্য কারও হাতে তুলে দিয়েছিল। একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।”
মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে শুধু রাজনীতি-অর্থনীতিই নয়, আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটেছে। আমাদের এই মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে।”
তিনি বলেন, “যদি আমরা এই দেশকে গঠন করতে চাই, তাহলে অবশ্যই এই মূল্যবোধগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।”
‘প্রতিহিংসা নয়, থাকবে ন্যায়পরায়ণতা’
সমাপনী বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা।”
‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরকার-বিরোধী দলের জাতীয় ঐক্য রয়েছে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ আর যাতে কখনও কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর যাতে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে— এই প্রশ্নে সংসদে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনও মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য অটুট এবং বজায় থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
‘শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শহীদগণ এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা, যেখানে ধনী কিংবা গরিব কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না।”
তিনি বলেন, “যে বাংলাদেশে চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের কোনও ঠাঁই হবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে না।।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ফ্যাসিবাদ, দুঃশাসন, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মতো বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।”