জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘‘জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
একইসঙ্গে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে একটি জবাবদিহিমূলক, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই পবিত্র জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা নির্বাচনের আগে প্রায় সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম।’’
তিনি বলেন, ‘‘আগেও বলেছি, আজও বলছি—আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম, সেই জুলাই সনদের স্বাক্ষরিত প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, অঙ্গীকারবদ্ধ।’’
৩১ দফা এখন ‘জনগণের ৩১ দফা’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় তিন বছর আগে জনগণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং সর্বশেষ নির্বাচনে সেই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই জনগণের সমর্থন পেয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘‘এই ৩১ দফা এখন আর বিএনপির ৩১ দফা নয়, বরং এটি এখন সমগ্র বাংলাদেশের ৩১ দফা, জনগণের ৩১ দফা।’’
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গড়ার অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি, আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জনগণের জীবন এবং সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।’’
কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সেবা পাবে।’’
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব সেবা একটি 'ইউনিভার্সাল কার্ডের' আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘‘আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়; প্রতিহিংসা নয়, থাকবে ন্যায়পরায়ণতা।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আর যেন কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং দেশ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—এই প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, এবং যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য অটুট থাকবে।’’