ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বৃদ্ধি, জনশক্তি উন্নয়ন এবং বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।”
একই সঙ্গে জনশক্তি রফতানি সহজ করতে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু এবং তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি ও পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঋণনির্ভর থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাজেট অধিবেশনে মাননীয় অর্থমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন যেকোনও প্রেক্ষাপটে, কী পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে আমরা পরিণত করতে চাই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো, সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিই হবে আমাদের প্রধান চালিকাশক্তি।”
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার সকল পরিকল্পনা এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে ইনশাআল্লাহ ২০৩৪ সালের মধ্যে আমরা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি চলে যেতে পারি।”
জনশক্তি রফতানি সহজ করতে প্রশিক্ষণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনশক্তি রফতানি ছাড়াও দেশের ভেতরে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত, ব্লু ইকোনমি এবং ইকো-ট্যুরিজম খাতেও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশের কর্মসংস্থান সহজ করার জন্য আমরা বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণও চালু করেছি। চাহিদাভিত্তিক এবং যুব উপযোগী শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ এবং ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।”
ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করার অঙ্গীকার
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার যদি ব্যবসা-বাণিজ্যের সামনে সকল বাধা সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়, আমরা দুর্নীতিকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি জবাবদিহির আওতায় আনতে পারি, তাহলেই আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।”
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর দাবি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদিও আমাদের অর্থনীতি দুর্বল, সমগ্র বিশ্ব একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অপরিসীম। এমন পরিস্থিতিতেও আমরা অর্থনৈতিকভাবে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি।”
তিনি বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং দেশের কৃষক, তরুণ, উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে।”