স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ চূড়ান্ত করলো ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংশোধনে একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১২তম কমিশন সভা শেষে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, দায়িত্বে থাকা প্রশাসক এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করা হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের বিষয়ে কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব শিগগিরই এসব সুপারিশ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রণীত স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের যেসব ধারা সংশোধন প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করেছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশও করা হবে।’

ঋণখেলাপিদের জামিনদারদেরও অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপির পাশাপাশি তার জামিনদারকেও অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে কমিশন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা বিল, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি— ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান— উভয় ক্ষেত্রেই তা অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরাও নির্বাচন করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, এসব সুপারিশ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। তারা উপযুক্ত মনে করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নয়; আমরা কেবল সুপারিশ করতে পারি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, তফসিল চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও এগোচ্ছে।

আইন সংশোধনের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে তা বলা সম্ভব নয়। আমরা যত দ্রুত সুপারিশ পাঠাতে পারব, পরবর্তী প্রক্রিয়াও তত দ্রুত এগোবে।’

এনআইডি সংশোধন নিয়েও আলোচনা

১২তম কমিশন সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব।

তিনি বলেন, এনআইডি নবায়নের জন্য নতুন একটি নির্ধারিত ফরম করা হবে। সেখানে আবেদনকারীর পারিবারিক তথ্য বা ফ্যামিলি ট্রি যুক্ত থাকবে, যাতে তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম ফিও নির্ধারণের বিষয় রয়েছে।

বর্তমানে ১৬ বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে এই বয়সসীমা আরও কমানো হবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি— কোন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা পরবর্তী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন হতো। এখন প্রবাসীরা বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোড করার পর যাচাই-বাছাই শেষে দেশ থেকেই অনুমোদন দেওয়া যাবে। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ কমে যাবে।