রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন। সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দিতে পারবেন। এর বেশি কিছু জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা এ নিয়ে বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক কারণে তাকে সরাতে রাজি হয়নি। তাছাড়া দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপিও তখন এ বিষয়ে সায় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি স্তিমিত হয়ে যায়। 

তবে এখন আবার পদত্যাগের আলোচনা জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তা নিয়েও চলছে কানাঘুষা। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিএনপি থেকে কেউ হচ্ছেন, নাকি দলের বাইরে কাউকে দেওয়া হতে পারে—এ নিয়ে এখনও নানা আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপি তাদের পছন্দ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ পাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিতেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো ক্যারিয়ারসম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী আছেন। হয়তো তাদের মধ্য থেকেই বাছাই করা হতে পারে। আর দলের বাইরে কাউকে আনার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার আগ পর্যন্ত এ নিয়ে  চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ক্ষেত্রে তাকে স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।