রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শিগগিরই

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। তিনি ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। ইনশাআল্লাহ ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।”

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। সেই অনুযায়ী ইসি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মতোই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ইসির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী রবিবার বা তার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “খুব দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।”

এর আগে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর যোগ্যতা প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং অযোগ্যতার কারণগুলো থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রেও আইনে ন্যূনতম ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রযোজ্য যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত শর্তগুলো রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শীর্ষক ওই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল প্যাডে লেখা হয়। এতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।