ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সবাইকে সমান মর্যাদায় দেখতে হবে: আইনমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভাজন বা চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। মানুষের পরিচয় ধর্ম দিয়ে নয়, মানুষ হিসেবে—এটাই একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের ভিত্তি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন ও সম্মান করতে পারলেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাসহ কোনও ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ মনে করবেন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের দখলকৃত জমির প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্দিরের জমি পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। কোনো ভূমিদস্যু, দুর্বৃত্ত বা মাফিয়া চক্রকে মন্দিরের সম্পত্তি স্থায়ীভাবে দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বিভাজনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় প্রথমত বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় হলেও নাগরিক পরিচয় ও অধিকার সবার জন্য সমান।

সরকারে থাকলে অনেক সময় ক্ষমতার কারণে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো দুর্বৃত্ত কারও বাড়িঘর, উপাসনালয় বা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার সাহস না পায়। সবার জন্য নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল এবং শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।