নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে পেশায় নিয়োজিত হতে চায়, সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।” শিক্ষার্থীদেরে তিনি বলেন, “নিজেকে ছোট ভাববে না, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ খেলার আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাঠের পাশে বসে প্রধানমন্ত্রী বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন। এসময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে খুদে খেলোয়াড়রা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। এসময় তাদের সঙ্গে হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ গড়ার কাজ নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে।” দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মাঠেও যেন বর্তমান প্রজন্ম ভালো করতে পারে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলেই আমরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে গড়ে তুলতে পারবো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই যে গ্যালারিতে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছো, তোমাদের মধ্য থেকেই এই দেশের একজন ভালো চিকিৎসক বের হবে। তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশের একজন ভালো আর্কিটেক্ট, ভালো ইঞ্জিনিয়ার, ভালো ক্রিকেটার, ভালো সুইমার ও ভালো টেনিস প্লেয়ার বের হবে।”
তিনি বলেন, “আজ তোমরা সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছো। তোমাদের মধ্যে থেকেই এই দেশের ভালো মানুষ তৈরি হবে। যারা এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। কাজেই নিজেকে কখনও ছোট ভাববে না, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে, তুমি তোমার বাংলাদেশকে তত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেক সমস্যা আছে, তবে সীমাবদ্ধতা ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে নতুন প্রজন্মকে তাগিদ দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন তারা যে পেশায় নিয়োজিত হতে চায়, সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে খুদে ক্রীড়াবিদদের বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনাল এবং বালিকা ও বালকদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট মাঠে বসে উপভোগ করেন তিনি। খেলা শেষে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া স্কুলশিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লেও উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরের যাত্রা শুরু হয়। এরপর দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিভা বাছাই শেষে জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।