দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শুরু হয়। সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম আসরের জাতীয় পর্বের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে লোগো ও ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের (দাবায় ৮ বছর থেকে) নিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা শনাক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণ
দেশব্যাপী উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিশু-কিশোর অংশ নেয়। সেখান থেকে নির্বাচিতরা জাতীয় পর্বে খেলার সুযোগ পায়।
আট ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা
প্রথম আসরে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় আসরে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে ইভেন্টের সংখ্যা হবে ১০টি। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন কোনও বিভাগীয় শহরে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
প্রথম আসরে বিভিন্ন ইভেন্টের ফলাফল
ফুটবল: বালক বিভাগে সিলেট অঞ্চল ১-০ গোলে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচের একমাত্র গোল করেন আরমান খান জিসান। বালিকা বিভাগে রংপুর অঞ্চল ৪-০ গোলে রাজশাহী অঞ্চলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
ক্রিকেট: বালক বিভাগে রাজশাহী অঞ্চল বৃষ্টি আইনে রংপুরকে ১৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বালিকা বিভাগে একই ব্যবধানে ময়মনসিংহকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ঢাকা অঞ্চল।
কাবাডি: বালক বিভাগে সিলেট এবং বালিকা বিভাগে রংপুর চ্যাম্পিয়ন হয়।
অ্যাথলেটিক্স: ২০০ মিটার স্প্রিন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী বিভাগের মোহাম্মদ আমান, ১০০ মিটার খুলনার জাকির হোসেন। বালিকা দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন ঢাকার মারিয়া।
ব্যাডমিন্টন: ব্যাডমিন্টনে বালিকা দ্বৈত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনার রাহমা জান্না ও তাসনিয়া ইসলাম জুটি। রাহমা জান্না বালিকা একক ও দ্বৈত—দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাবল ক্রাউন জেতেন। বালক একক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম অঞ্চলের রুদ্র ত্রিপুরা। দ্বৈত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন খুলনার শেখ মোহাম্মদ তানভীর ও রিফাতুল ইসলাম জুটি।
দাবা: বালিকা বিভাগে ওয়ার্সিয়া খুশবু সাত ম্যাচে সাত জয় নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। বালক বিভাগে ঢাকা অঞ্চলের আওসাফ চৌধুরী চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
সাঁতার: বালিকা ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে চ্যাম্পিয়ন কুষ্টিয়ার সাদিয়া।
লং জাম্প: মেয়েদের লং জাম্পে চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুরের ইমা খান।
কারাতে: ৪৫ কেজির নিচে বালক বিভাগে ফরিদপুরের ফাইয়াজ রহমান এবং বালিকা বিভাগে ঢাকার ওয়ারিশা ওয়াইনিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।ফাইনাল দেখতে মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।"
চার ধাপে প্রতিভা বাছাই
প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয় চার ধাপে—উপজেলা পর্যায়; জেলা পর্যায়; আঞ্চলিক (১০ অঞ্চল) পর্যায়; জাতীয় পর্যায়।
আয়োজকদের মতে, বিজয়ী ও সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের বিকেএসপিতে ভর্তি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ফোনের আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। জাতীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন ইভেন্টে যারা সেরা পারফরম্যান্স করবে, তাদের বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব সরকার বহন করবে।