অবৈধভাবে প্রতারণার চক্র হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের ভালো হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এগুলো বন্ধ না করলে কপালে শনির দশা আছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রত্যেককে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন এজেন্সি নজরদারি করছে। রেহাই পাওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আপনারা যদি এখনও এগুলো বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের কপালে শনির দশা আছে।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ার প্রসেস নিয়ে আমাদের ডিসকাশন চলছে যে কী প্রক্রিয়ায় এখানে লোক পাঠানো হবে। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে আমাদের বাংলাদেশিদের যাতায়াতের একটা পথ তৈরি করতে চাই। তার আগে দেখছি যে টাকা নেওয়ার জন্য লাইন দেওয়া, সিরিয়াল করা, এগুলো বিজ্ঞাপন চলছে। এটা তো স্পষ্টত অভিবাসীআইনের বিরুদ্ধে। কারণ মন্ত্রণালয়ের অথরাইজেশন ছাড়া বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এটাকে সিম্পলভাবে নেওয়ার সুযোগ নাই। কারণ আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটা কয়েক সেকেন্ডের কন্টেন্ট মিলিয়ন মানুষের কাছে কিন্তু পৌঁছে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “শুধু এটা না— তারা তো ইউরোপের রুটে পৌঁছে দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এখানে আমাদের বড় নজরদারি করতে হবে এবং যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে অন্যান্য দফতরেও যারা কাজ করছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে।”
নুরুল হক বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের জন্য ঘুষ দেওয়া লাগে। এমন অনেক অভিযোগ আমরা পাই। এখানে তো গরিব মানুষ লোন নেয়, এখানে কেন ১০-২০ হাজার টাকা চাওয়া হবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এটা হচ্ছে। সুতরাং এটাও স্পষ্ট বন্ধ করতে হবে। মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের কিংবা শ্রমবাজারে মানুষকে শোষণ করার বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৪৯টা এবং রাশিয়ার একটা কেসে আরও কয়েকটা রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমি খুব কনফিডেন্টলি বলছি— ৩ হাজারের মতো যে রিক্রুটিং লাইসেন্স আছে এগুলোকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে হবে। ৪০০-৫০০’র বেশি লাইসেন্স কি ঠিক? তাহলে এতগুলো কেন দেওয়া হচ্ছে? এসব নামে-বেনামে লাইসেন্স প্রতারণা করে। এমনকি তাদের কন্ডিশন থাকে যে তিন বছরে ১০০ লোক পাঠানো, অনেক লাইসেন্স পারে না। এই অজুহাত দিয়ে আবার এটাকে নবায়ন করে নেয়।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লাগে— আই ডোন্ট নো। এই অতিরিক্ত টাকা তো সিঙ্গাপুর নেয় না। ছয়টা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটকে অথরাইজেশন করেছে, তারা চার্জ নিচ্ছে সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করছে। তারা শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে আর গরিবের রক্ত চুষে নিচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ, রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী প্রমুখ।