জুলাইয়ের রক্তমাখা সেই পতাকা হাতে নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে শেখ আজিজুর

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। তার ইচ্ছা ছিল, রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার। সাক্ষাতে তিনি সেই পতাকাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন।

সম্প্রতি ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে আজিজুরকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরে আজিজুরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য আনা হয়।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী আজিজুরের আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানো এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তার জীবনসংগ্রামের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে ব্যথিত করে বলে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে শেখ আজিজুর

সাক্ষাৎ শেষে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। এটিকে তিনি জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় সেই পতাকা। এরপরও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।

১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান। তবে ছাত্রদল করার কারণে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।