বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিষ্টি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত মল্লিক। নিরাপত্তার দায় এড়িয়ে নাগরিক অধিকার খর্ব করা চলবে না, দিন-রাত সবসময় সারা দেশে নিরাপদে উৎসব উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সকল খুনি-ধর্ষক-যৌনসন্ত্রাসী চক্রকে রুখে দাঁড়াতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সৈকত মল্লিক বলেন,‘যারা মানুষকে সারাদিন-রাত নিরাপত্তা প্রদান না করতে পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে নেয়, আমরা তাদের দেওয়া মিষ্টি খাবো না। সেটি প্রত্যাখ্যান করবো।’
নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলার সঞ্চালনায় এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীর, লেখক ও সংগীত শিল্পী অর্যপ রাহা, নারী সংহতির নেত্রী জান্নাতুল তানিয়া, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির প্রমুখ।
সমাবেশে সৈকত মল্লিক আরও বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিকেল ৫টার পর তারা নিরাপত্তা দিতে পারবে না। প্রশ্ন হলো, তারা আসলে কাদেরকেই বা নিরাপত্তা দিতে পারছে? তারা শুধু পারে ফেসবুকে কে প্রধানমন্ত্রীর নামে কি লিখেছে তাকে গ্রেফতার করতে।
নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীর বলেন, এ রাষ্ট্র সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।তারা খুনি ও ধর্ষকদের পৃষ্ঠোপোষকতা করতে পারে। যার প্রমাণ হলো এই পহেলা বৈশাখের সময়ও অপরাধীদের দমনের কোনও কথা না বলে সাধারণ মানুষকে বিকেল ৫টার আগে উৎসব উদযাপন শেষ করতে বলা হচ্ছে। আবার অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে তারা যখন কোনও অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে তখন সেটাকে দুষ্টুমি বলা হচ্ছে।
বৈশাখে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেকেই নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, যুদ্ধের পর আজ এমন একটি বাংলাদেশ কায়েম করা হয়েছে যেখানে একটি জাতীয় উৎসব উদযাপনের আগে মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা চাইতে হয়। শুধু তাই নয়, এ রাষ্ট্র মানুষকে বর্ডার থেকে বেডরুম পর্যন্ত নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ। এ রাষ্ট্রে মায়ের পেটে গুলি করে সন্তানকে হত্যা করা হয়, দম্পত্তিকে বেডরুমে গিয়ে হত্যা করা হয়, মানুষ হত্যা করে সীমান প্রাচীরে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। তাই এ রাষ্ট্রের কাছে থেকে নিরাপত্তা না চেয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।
নারী সংহতির নেত্রী জান্নাতুল তানিয়া বলেন,এ প্রশাসনকে লালন পালন করে এদেশের সাধারণ জনগণ। সুতরাং সাধারণ মানুষের সব সময়ের নিরাপত্তা প্রদান করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বাধ্য। অথচ সেই প্রশাসন আজ সময় বেঁধে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে তাদের ব্যর্থতাকেই উন্মোচিত করেছে মাত্র।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল বের করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।
এসআর/এমএসএম/