বাগেরহাটের মোংলা থেকে মিরাজ শেখ নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি যে কারণেই নিখোঁজ হন না কেন, তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার নিশ্চয়ই সে দায়িত্ব পালন করবে।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।
এর আগে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ‘গুমের প্রথম ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তবে এমন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনী দাবি করেছে, বিষয়টি একতরফাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মিরাজ শেখকে তারা কখনও আটক বা হেফাজতে নেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান পর্যালোচনা করেও বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লেখ করা তারিখে জয়মনি এলাকায় কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বক্তব্য যা-ই হোক, প্রত্যেক নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব।
কোনও বাহিনী কাউকে তুলে নিয়ে গেছে কি না কিংবা একজন ব্যক্তি কেন নিখোঁজ হয়েছেন—এসব প্রশ্ন উত্থাপন এবং সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাকে উৎসাহিত করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের প্রশ্ন ও চাপের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ কার্যকর থাকে।