শুরু হচ্ছে পুষ্টিচাল বিতরণ, কেজি ১৫ টাকা

খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ২৫৬ উপজেলার পাশাপাশি মোট ৩০০ উপজেলায় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি)-এর সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে ছয় মাস চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।

এছাড়া অপুষ্টি নিরসন ও জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারে একই কর্মসূচির আওতায় মোট ৩০০ উপজেলায় ছয় ধরনের ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিচাল বিতরণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারি খাতে গড়ে ৩২ দশমিক ৩২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিতরণ করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টন।

খাদ্যশস্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ায় সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুতও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যমান ১৩ লাখ মেট্রিক টনের পরিবর্তে স্বাভাবিক সময়ে ১৪ লাখ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে পার্বত্য অঞ্চলে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।

সভায় খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।