৫ আগস্টের পর আয়নাঘরের অনেক জায়গায় আলামত নষ্ট করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আয়নাঘরের অনেক জায়গায় আলামত নষ্ট করা হয়েছে, ওয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। অসংখ্য তথ্য প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ডিজিএফআই সদর দফতরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে এই আয়নাঘর নামিও টর্চারসেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভিন্নমতের অনেক ভুক্তভোগীকে মাসের পর মাস বছরের পর বছর এই টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়।

তিনি বলেন, এই টর্চার সেলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, ভবিষ্যতে যাদের পাওয়া যাবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

৫ আগস্টের পর অনেক জায়গায় আলামত নষ্ট করা হয়েছে, ওয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। অসংখ্য তথ্য প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই পরিদর্শন নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। যে কোনও বিচারকের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনগত বৈধতা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হচ্ছে সেটা স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের। এই পরিদর্শন ন্যায় বিচারের জন্য গুরুত্ব বহন করবে।

তিনি বলেন, এক এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই টর্চার সেলে যে নির্যাতন করা হয়েছে, দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছে, এর জবাব তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের দিতে হবে।

এর আগে ডিজিএফআই সদর দফতরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শনে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানসহ বিচারপতি ও প্রসিকিউশন টিম। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের স্বার্থে এ পরিদর্শন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

পরিদর্শনে ছিলেন– ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা। এ ছাড়া, অনুমতি পেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও।

গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দফতরে থাকা টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা আয়নাঘর পরিদর্শন করা হয়। ওই দিন ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন বিচারপতি মর্তূজাসহ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও প্রসিকিউটররা। একইসঙ্গে সাতটি ডেথ সেলে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।