আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের ভেতরে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বুধবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ ভবনের ভেতরেই ভোটকেন্দ্র ও বুথ স্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্যরা আসন নম্বর অনুযায়ী সেখানে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোটের ব্যালটে প্রার্থীর নামের সামনে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯টি ভোট রয়েছে। বিকাল ৫টার আগেই সব ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেলে ভোট গণনার পর ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের সময় উপস্থিত থাকবেন। কমিশনের কোনো কমিশনার এলে তিনিও সেখানে থাকবেন। এ ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবেন।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারও ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে এবং ভোটগ্রহণ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুতের সময়ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চিফ হুইপ জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।
অন্যদিকে ১১ দলীয় বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান ভোটপদ্ধতি নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীর সামনে তার নাম লিখবেন। ভোটটি প্রকাশ্য বা গোপন— যেটিই হোক, ভোটদাতাকে নিজের নাম ও আসন নম্বর লিখতে হবে। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমানে ভোটে কোনো গোপনীয়তা নেই। ভবিষ্যতে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেভাবেই ভোটের ব্যবস্থা করা হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না। বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর দলের সব সংসদ সদস্য একসঙ্গে সেই প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেবেন।