রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেভাবে ভোট দেবেন এমপিরা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত । জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষেই এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষে প্রাথমিক ফলাফলও সংসদ কক্ষে ঘোষণা করা হবে। তবে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এসে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার, সরকারি দলের চিফ হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভোটের স্থান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষেই এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসবেন। সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।

ব্যালট পাওয়ার পর সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তাদের সামনে থাকা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট জমা দেবেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনও অনিবার্য কারণে কোনো সংসদ সদস্য দেরিতে পৌঁছালেও ভোট দিতে পারেন।

ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, বিকাল ৫টায় যখন ভোটগ্রহণ শেষ হবে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যেখানে ভোট বাক্সগুলো রাখা হবে, সেখানেই ভোট গণনা করবো।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বিরোধী দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে সেটি ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে বিবেচিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত না। এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে করবেন।’

সরাসরি সম্প্রচার হবে ভোট

ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদেরও সংসদ কক্ষে বসার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে ২০ জনের নাম দেওয়া হবে এবং তাদের আলাদা পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্য সহায়ক কর্মকর্তা সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকতে চাইলে তাদের নামও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

ব্যালটে থাকবে প্রার্থীদের নাম

ব্যালট পেপার ছাপানোর বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনই ব্যালট পেপার ছাপাবে। ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—একটি মুড়ি এবং অন্যটি ভোটের অংশ।

মুড়িতে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর এবং ভোটারের সইয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে। ভোটের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম এবং ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে। সেখানে ভোটাররা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের তারিখ ও স্থান জানিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মঙ্গলবারই গেজেট প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ইসি সচিব।

তিনি আরও জানান, ব্যালট বাক্স স্বচ্ছ হবে। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। নির্দিষ্ট কোনো ভোটকেন্দ্র বা বুথ থাকবে না।

প্রাথমিক ফল সংসদে, গেজেট ইসিতে

ভোটের ফলাফল কোথায় ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, প্রাথমিক ফলাফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ কক্ষেই ঘোষণা করবেন। তবে গেজেট প্রকাশের কাজ নির্বাচন কমিশনে এসে করা হবে। কারণ সংসদ কক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশের সুযোগ নেই।

২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই বিকালে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ শিরোনামের ওই পদত্যাগপত্রে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান সাহাবুদ্দিন।

এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আর ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।