বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন পথে?

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কয়েক দফা আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও সম্পর্ক নতুন করে ‘রিসেট’ করার চেষ্টাও বিফলে গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আগে থেকেই ভারত সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার চেষ্টায় আছে। তবে সরকারের গত ছয় মাসে বেশ কিছু ঘটনা বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে অতীতের পুনরাবৃত্তি করার আর সুযোগ নেই। দুই দেশকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বারবার যদি নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, তাহলে স্থবিরতা কাটবে না।   

সম্পর্ক রিসেটের একাধিক চেষ্টা

৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ভারত অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানায় এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর একাধিকবার বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, কোনও একটি দলের সঙ্গে নয়।’’

টানাপোড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক চ্যানেল বন্ধ করা হয়নি। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৫ সালে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক, হাইকমিশনারদের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, যেমন- বিমসটেক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইডলাইনে বৈঠক করা হয়েছে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপরও স্থবিরতা কাটেনি। সংখ্যালঘু ইস্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও পরবর্তীকালে আলোচনা কূটনৈতিক চ্যানেলে শুরু হয়।

ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা টানাপোড়েন থাকলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ফেরার পর থেকেই দেশটির সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে পুনরায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা শুরু করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত থেকে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ভারত থেকে সরকারের প্রতিনিধি পাঠানো হয়। দুইবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠান। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

নতুন সরকার শপথের পর ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠায় ভারত। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট থেকে বন্ধ থাকা ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। এছাড়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাণিজ্য বন্ধ হয়নি।      

ভারতের সঙ্গে একাধিক দ্বন্দ্ব যেসব ইস্যুতে

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে একাধিক ইস্যুতে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ইস্যুটি প্রধান। এছাড়া সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আছে উদ্বেগ। বাংলাদেশ থেকে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠির সন্তোষজনক কোনও জবাব দেয়নি ভারত বরং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনুরোধ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব ছাড়াও গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও অগ্রগতি নেই। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যায় অভিযুক্তদের ভারতে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও কোনও অগ্রগতি নেই। 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, শেখ হাসিনা ইস্যু এবং তিস্তার মতো বড় রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। তাই ছোট ছোট বাস্তব পদক্ষেপ, যেমন- ভিসা সহজ করা, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা—এর মাধ্যমেই আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত। তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও বেশি। বিশেষ করে সীমান্তে হত্যা বন্ধ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। এসব বিষয়ে বড় অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত ছোট উদ্যোগ দিয়ে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দায়িত্ব নেন গত ২৫ জুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পান ভারতীয় হাইকমিশনার। তার আগের দিন ৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত। এসব বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যু, সীমান্ত ইস্যু, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৈঠক শেষেই সোমবার বিকালে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্রিফ করতে তিনি দিল্লি গেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো আমন্ত্রণের বিষয়েও আপডেট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করবেন।     

ঢাকা চায় সহনীয় পরিবেশ  

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একটি সহনীয় পরিবেশ চায় ঢাকা। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা বলার বিষয়টিকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য না। ভারত সরকার বিষয়টি আগে থেকে জানলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ঢাকার তরফে এই উদ্বেগের কথা দিল্লিকে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা তৈরির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।’’ এছাড়া শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ এবং হাদী হত্যায় অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে এসেছে এবং আমরা এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বলেছি। আমরা আশা করি, ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে।’’

হাদী হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘ভারত কর্তৃপক্ষের চাওয়া অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব নথি হস্তান্তর করেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ভারত যেসব নথি চেয়েছিল, তার সবই আমরা দিয়েছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এই খুনিদের দ্রুত আমাদের হাতে তুলে দিতে বলেছি।’’

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘সোমবার (৯ আগস্ট) আমি ভারতীয় দূতের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, তিনি বিষয়টি এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পেরেছেন।’’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও  বলেন, ‘‘৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আমি আশা করি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’’

দুই প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার টেবিলে চায় ভারত

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা যাবে না— এমন কোন ইস্যু নেই। দুই নেতা একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অর্থাৎ ভারত চাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিয়ে যেতে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে– একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেক সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যদিও আমন্ত্রণে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। সফর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারত সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’’ 

সাবেক একজন কূটনৈতিক ই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারত-বিরোধিতা বা ভারতের প্রতি সংশয় একটি বড় ফ্যাক্টর। শুধু একটি দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের সব অংশীজনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিই হবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য লাভজনক। একইভাবে বাংলাদেশকেও মনে রাখতে হবে, ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতকে উপেক্ষা করে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশল সাজানো সম্ভব নয়।’’   

তিনি বলেন, ‘‘স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেমন ভারতকে গুরুত্ব দিতে হবে, ভারতকেও নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।’’ 

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা ইস্যুতে দায় ভারতের অবশ্যই আছে এবং সে বিষয়ে তাদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। সরকারের সম্পৃক্ততা নেই—এমন কথা ভারতের দিক থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনও টেকনিক্যাল ইস্যু নয়, রাজনৈতিক ইস্যু।’’

তিনি বলেন, ‘‘সম্পর্কটা এখন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা বড় বাধা, এতে কোনও সন্দেহ নেই। ভারত যদি বাংলাদেশকে সম্মান করে এবং মেনে নিয়ে থাকে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, সেটাই হবে সমীচীন। এটা সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। এর ব্যত্যয় যদি হয়, তবে তা সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনে কোনও ভূমিকা রাখবে না। স্পর্শকাতরতা এড়িয়ে অভিন্ন স্বার্থের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।’’

সরকার কী ভাবছে 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের কৌশল হলো—চাপ এবং আলোচনা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে অনড় থাকা এবং অন্যদিকে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ আমদানি, নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা। অর্থাৎ সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ভারতকে বোঝানো যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হলে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর যেভাবে সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ‘‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’’