রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ‘ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথডে’, কারও আপত্তি থাকার কথা নয়: সিইসি

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ভোট গণনা করার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ইটস এ ‘ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড’। সুতরাং এখানে কারও কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রথম হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এর পরে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। ফলে আমাদের এখানে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। কারণ আমাদের লোকজনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয়, যারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তারাও এ ধরনের কার্যক্রম করতে অভ্যস্ত না। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরির ঘাটতি আছে। তারপরও আমরা যত রকমের এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে গেলে ১৯৯১ সালের একটি আইন আছে এবং ১৯৯১ সালে একটি বিধি আছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালায়। আইন ও বিধিমালার আলোকে আমরা দেখেছি যে, এখানে কয়েকটি স্তরে কার্যক্রমটাকে ভাগ করা যায়। এক নম্বর হচ্ছে, যদি পার্লামেন্ট সেশনে থাকে, তাহলে এক ধরনের ব্যবস্থা; আর যদি সেশনে না থাকে, তাহলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা। এখন পার্লামেন্ট সেশনে নেই। এমন না যে সেশন ডাকতেই হবে। শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য একটি বৈঠক আহ্বান করলেই চলে এবং সেটা আইনের মধ্যে দেওয়া আছে।’

সিইসি বলেন, ‘সাধারণত পার্লামেন্টের সেশন ডাকেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যদি হয় এবং পার্লামেন্ট যদি সেশনে না থাকে, তাহলে সিইসি এই বৈঠক আহ্বান করবেন। আমরা সেটা করে অলরেডি আগস্ট মাসের ১১ তারিখে গেজেট করে দিয়েছি। নির্বাচনের আগে এই গেজেট করে অন্তত ন্যূনতম সাত দিন সময় দিতে হয়। আমরা সাফিশিয়েন্ট টাইম দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপর আমাদের ভোটার তালিকা করতে হয়। যারা ভোট দেবেন, আপনারা জানেন, আমাদের সংবিধানের ৪৮-এর এক ধারা অনুযায়ী মাননীয় সংসদ সদস্যরা ভোটার, উনারাই ভোট দেবেন। আমরা ভোটার তালিকাটাও প্রকাশ করে দিয়েছি এবং গেজেট প্রকাশ করেছি। শিডিউল ঘোষণা করে দিয়েছি—কোনদিন নমিনেশন ফাইল হবে, কোনদিন স্ক্রুটিনি হবে, কোনদিন উইথড্রলের ডেট এবং কোনদিন নির্বাচন হবে—আমরা গেজেট করেছি। এই গেজেট আমরা ৬ আগস্ট করেছি। ১৩ তারিখে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ছিল। ১৩ তারিখে আমরা তিনটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি এবং বর্তমান সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে একটি। বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে অলি আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি মনোনয়ন বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি এবং সরকারি দল বিএনপির একটি। এখন উইথড্রলের দিন ছিল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। কেউ উইথড্র করেনি।’

সিইসি বলেন, ‘আমাদের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন। এই ভোটার সংখ্যা নিয়ে আমাদের ঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী ২০ তারিখে ভোট হবে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এখানে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি একজন ভোটার, বর্তমান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোটার, মাননীয় স্পিকার ভোটার, মাননীয় বিরোধী দলের নেতাও ভোটার এবং সব এমপিই ভোটার। সব মিলিয়ে খুব হাই-প্রোফাইল একটি নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ‘ভোট ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হবে। ভোটের পরে আমরা ইনস্ট্যান্টলি গোনা শুরু করবো। পরে যে রেজাল্টটা আমি এনাউন্স করবো, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সেটাই ফাইনাল। সুতরাং ভোটের পরপরই আমরা কাউন্টিং করে সেখানে ঘোষণা করে দেব। পরে আমরা এখানে (নির্বাচন কমিশন) এসে ওইদিনই গেজেট করে দেব। আমাদের কিছু সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন। আমরা ২০ জনের একটি তালিকা দিয়েছি পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে। আমরা আবার এখানে পার্লামেন্ট সেক্রেটারির সহায়তা নেবো।’

ভোট লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার এবং লিডার অব দ্য অপজিশন—উনাদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রথম দিকে একটু লাইভ টেলিকাস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্পিকার মহোদয়ের নেতৃত্বে যে সভা হয়েছে, সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উনারা যখন ভোট দেবেন—মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভোট দেবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোট দেবেন—এই বিষয়গুলো লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে করা হবে। আবার যখন ভোট চলতে থাকবে, তখন হয়তো ডিসকন্টিনিউ করবে। পরে যখন আমরা কাউন্টিং শুরু করবো, ৫টার সময় কাউন্টিং শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হয়ে যাবে। কাউন্টিংয়ের সময় এভাবে লাইভ টেলিকাস্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘কাউন্টিংয়ের সময় আমাদের সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, তারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। উনার ভোটটা দিয়ে যে উনাকে চলে যেতে হবে, এমন না। গণনার সময়ও তারা থাকতে পারবেন। ইটস এ ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। উনারা থাকতে পারবেন।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঘোষণার সময়, যখন কাউন্টিং শেষ হয়ে যাবে, তখন সিইসি, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে, যে রেজাল্টটা এনাউন্স করবেন, সবার সামনে এনাউন্স করবেন। আমারা ব্যালট কয়টা প্রিন্ট করেছি, কয়টা ব্যালট ইউজ হয়েছে, কয়টা ব্যালট সারপ্লাস রইলো, কতটা অবশিষ্ট রইলো, কয়টা ব্যালট বাতিল হলো কতটা নষ্ট হলো—এগুলো সব বিস্তারিত বলা হবে। কতটা ব্যালট ইউজ হলো এবং ইউজড ব্যালটের মধ্যে কে কত ভোট পেল, যে ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে কে কত ভোট পেল—এটার সংখ্যাগুলো সব বিস্তারিত এনাউন্স করে দেব। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট, মেজরিটি ভোট পাবেন, তিনি বিজয়ী হবেন। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দেব।’

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আমাদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারবো। এই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতিতে যত রকমের অল কনসিভেবল ডাইমেনশন থাকতে পারে, সব কভারড ইন আওয়ার প্রিপারেশন ফর দিস ইলেকশন। যত রকমের ডাইমেনশন থাকতে পারে, আমরা সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছি।’

কোন সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা কি প্রকাশ করবেন কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘ওটা আমি ঘোষণা করবো না। কিন্তু এটা ওপেন। আমাদের নরমাল ইলেকশনে কি আপনারা দেখতে পারবেন কে কাকে ভোট দিল? সুতরাং এটা ওপেন। আপনার ব্যালটের মধ্যে যিনি ভোটার, তার নাম আছে। এখন যাকে ভোট দিলেন, তার নাম আছে। তাহলে এর চাইতে আর কী? আমার আর গুনে গুনে যে উনি অমুককে ভোট দিয়েছেন, এটা বলার তো দরকার নেই।’

ভোটে দুইজন প্রার্থী আছে। দুইজন প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারছে না। প্রার্থীর অধিকার পূর্ণ হচ্ছে কিনা জনতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন ওখানে হাউসের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করতে পারবে না। বাইরে যদি উনারা করেন, এটা আমার আইনের মধ্যে নিষেধ নেই।’