শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে, চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় মঈন খান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান চতুর্থবারের মতো মন্ত্রিসভায় ফিরলেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হওয়া চার পূর্ণমন্ত্রীর একজন ড. আবদুল মঈন খান। অন্য তিনজন হলেন জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে

ড. আবদুল মঈন খান ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মোমেন খান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। বাবার হাত ধরেই মঈন খানের রাজনীতিতে প্রবেশ। নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। পরে অধ্যাপনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসেন মঈন খান। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। অর্থনীতি, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে দলটির গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

তিন দফায় মন্ত্রিসভায়

মঈন খানের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তিন দফায়। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অর্থাৎ এবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকারের দায়িত্বে ফিরলেন তিনি। একই সঙ্গে এটি তার চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন।

মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

হলফনামায় সম্পদের চিত্র

নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ কর বছরে মঈন খানের প্রদর্শিত বার্ষিক আয় ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৬১০ টাকা। এর বিপরীতে প্রদেয় আয়কর ৭ লাখ ৪১ হাজার ১৭৩ টাকা। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৯ টাকা।

তার নিজের নামে ৮২ লাখ ৮৬ হাজার ২০৪ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৯৪ লাখ ৬১ হাজার ৭২৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, নগদ ও ব্যাংক আমানত, ২০০৬ সালে ৪৩ লাখ টাকায় কেনা একটি জিপ গাড়ি, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর পাশাপাশি দুটি দোনালা বন্দুকের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হলফনামায় তার মোট দায় ১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং স্ত্রী ও কন্যার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।