সার সংকট নেই, সমস্যা বিতরণে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে সারের কোনও প্রকৃত ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার অনিয়মে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘কোথাও বরাদ্দ পাওয়া সার ডিলাররা সময় মতো উত্তোলন করছেন না। কোথাও নতুন বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিলারদের কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি বড় পরিমাণ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশে সারের কোনও সংকট নেই। তবে কোনও কোনও জায়গায় সার বিতরণে কিছু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। যেখানে দায়িত্ব পালনে সমস্যা পাওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কৃষি বিভাগের হোন কিংবা প্রশাসনের— তাকে বদলি করে নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। মূল সমস্যা মজুতে নয়, কিছু ক্ষেত্রে বিতরণ ব্যবস্থায়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে কোথাও কোথাও সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।’

দেশে যেন কোনও ধরনের সারের ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য বড় পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার (২৪ আগস্ট) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু এই দুই ধাপেই ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট সারের মজুত প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।

এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।

এ ছাড়া আমদানি প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও বড় পরিমাণ সার। এর মধ্যে টিএসপি ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং এমওপি ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।

আরও নতুন আমদানির অনুমোদনের মধ্যে রয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি এবং ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এসব হিসাব বিবেচনায় নিলে দেশে সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটও সরকারের নজরে রয়েছে বলে জানান ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টিই সামনে আসে। কিন্তু বৈশ্বিক সার পরিবহন এবং সার তৈরির কাঁচামাল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও মধ্যপ্রাচ্যের এই রুটের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে শুধু জ্বালানি নয়, সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।‘

এ কারণে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বিশ্বজুড়ে ভবিষ্যৎ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার এসব অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখেই সরকার সার আমদানি ও মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারের পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখা এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো— দুই বিষয়েই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’