সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি বর্জনের কারণে জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ থেকে ছিটকে পড়তে যাচ্ছে বিরোধী জোট। জুলাই সনদ অনুযায়ী ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার সঙ্গে এই সুযোগকে যুক্ত করেছে সরকার। ফলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দলের সভাপতির পদ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলকে বলা হয়েছে—সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে জুলাই সনদ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে। তবে বিরোধী দল ওই বিশেষ কমিটিতে অংশ নেয়নি। বরং দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিকে কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার কমিটিতে সদস্যই দিলো না, সংবিধানে আমরা যা-ই করি, সেটাই তো সংস্কার। দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন চেঞ্জ করলেও তো সংস্কারই হলো। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে না বসলে কীভাবে হবে, আমি জানি না। ভারতে ১৯৫০ সাল থেকে ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘রেওয়াজ হলো সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দল থেকে একটি কমিটি দেওয়া। আমরা অলরেডি দিয়েছি। আর বাকি কমিটিতে রেওয়াজ নেই। সংবিধান সংশোধনের এই কার্যক্রম যদি তারা করতো, জুলাই সনদে আমরা কিছুটা এগোতে পারলে—আমরা শেষ চেষ্টা করতাম কমিটিতে তাদের দেওয়ার জন্য। আমরা তো দিতেই চাই—একটুকু সত্যি দিতে চাই, কিন্তু তারা নেয় না।’’
কমিটি গঠন শেষ করতে হবে তৃতীয় অধিবেশনেই
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬ বিধি অনুযায়ী, নতুন সংসদকে তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। ফলে তৃতীয় অধিবেশনেই স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘‘রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করতে হবে। দুটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সব কমিটি গঠন হয়ে যাবে।’’
দ্বিতীয় অধিবেশন শেষেও ৩১ কমিটি বাকি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। ২৫ কার্যদিবস চলার পর ৩০ এপ্রিল অধিবেশন শেষ হয়। প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন হাউস ও বিশেষ কমিটিসহ একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ৭ জুন শুরু হয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশন। ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়। ৩০ জুন বাজেট পাসের পরও অধিবেশন চলতে থাকে। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয় ১৫ জুলাই।
দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট ১৯টি কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জুলাই চারটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়—পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
এর আগে ১৪ জুন একসঙ্গে গঠন করা হয় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিও দুই অধিবেশনে গঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী মোট ৫০টি কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। ফলে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে এখনও ৩১টি কমিটি গঠন বাকি।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন কমিটি ঘিরে বিরোধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বিরোধ তীব্র হয়। গত ১৪ জুন কমিটি গঠন করা হলেও বিরোধী দল এতে সদস্য দেয়নি। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। সংবিধান সংশোধনের কাজ সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই করা উচিত বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কমিটির গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিরোধী দলের।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘‘জনগণ নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের ধারাবাহিকতার ওপর আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছে। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংস্কারের অংশ। সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বিএনপি থেকে সাত জন ও জামায়াত থেকে পাঁচ জন সদস্য রাখার কথা রয়েছে। বিরোধী দল সদস্য দিলে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘‘সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিরোধী দলের দায়িত্ব। জুলাই সনদ অনুযায়ী ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় এ সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’’
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের রেওয়াজ কী
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও রাজনৈতিক রেওয়াজের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে প্রতিটি সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য বা সভাপতি থাকতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ বা কার্যপ্রণালি বিধিতে নেই।’’
সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। আর কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬ বিধিতে নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
অতীতে সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার রাজনৈতিক রেওয়াজ দেখা গেছে। ফলে এবার জুলাই সনদের আলোকে ১৪টি সভাপতির পদ বিরোধী দলের জন্য রাখার বিষয়টি রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে।
১৩ জুলাইয়ের ওয়াকআউট
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশ না নেওয়ার অবস্থান থেকেই দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিকে বিরোধী দল সংসদে প্রতিবাদ জানায়। ১৩ জুলাই সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা ওয়াকআউট করে।
এর আগে সংসদে কমিটি গঠন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও দুইপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয় এবং বিরোধী দল ওই প্রস্তাব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
তৃতীয় অধিবেশনে ফয়সালা হবে?
দ্বিতীয় অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার পর এখন ২৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে তৃতীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে বাকি সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন।
ফলে তৃতীয় অধিবেশনে শুধু ৩১টি কমিটি গঠনের কাজই নয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সভাপতির পদগুলো কীভাবে বণ্টন করা হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার অবস্থান ধরে রাখলে জুলাই সনদের ১৪টি সভাপতির পদ তাদের দেওয়ার প্রশ্নে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। আর চিফ হুইপের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার বিরোধী দলকে কমিটিতে রাখতে আগ্রহী হলেও তাদের অনাগ্রহের কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগেনি।
তৃতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে তাই সংসদীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সংক্ষিপ্ত হবে তৃতীয় অধিবেশন
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বসতে যাওয়া এই অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যাবলি চূড়ান্ত করতে আগামীকাল দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে এবারের অধিবেশন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হতে পারবে না।
গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। সে হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি থাকায় কিছুটা আগেই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশন শেষে ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘‘আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে; তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।’’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ওনারা প্রথমে ১২টির বলেছিলেন, তারপর বললেন ১১টা কমিটি দেবেন। কিন্তু এখন আবার বলছেন যে দেবেন না। আমাদের সোজা কথা হলো, জুলাই সনদের ব্যাপারে ওনাদের কমিটমেন্টে নেই।’’
সরকারি দল তো বলেছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন প্যারাগ্রাফ ধরে ধরে লঙ্ঘন করছে। এটার একটা প্রমাণ হলো—আমাদের এই কমিটির সভাপতি পদ না দেওয়া’’
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জামায়াতের সদস্য না দেওয়া প্রসঙ্গে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা তো সংস্কারের পক্ষে, সংশোধনের পক্ষে না।’’ সরকার যদি সংসদীয় কমিটিতে আপনাদের রাখে সে ক্ষেত্রে আপনাদের করণীয় কী প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম।’’
তৃতীয় অধিবেশনে যেসব বিল উঠতে পারে
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে জমা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনও বিল আকারে উত্থাপনের জন্য শিগগিরই জমা হবে। এসব বিল উত্থাপনের পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে।
অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপি দলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘‘তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য।’’
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’’