চীনা যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোলের’ অংশ: তথ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার পরিকল্পনা কোনও হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়— এটি সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল’-এর অংশ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের তিন বাহিনীর মধ্যে বিমান বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমান সক্ষমতায় তুলনামূলক ঘাটতি রয়েছে।’’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘বাংলাদেশের হাতে অল্পসংখ্যক মিগ-২৯ রয়েছে। এর বাইরে যুদ্ধবিমান বহরের বড় অংশ জে-৭ সিরিজের, যার প্রযুক্তিগত ভিত্তি অনেক পুরোনো।’

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে আধুনিক বিমান বাহিনীতে ‘মাল্টিরোল ফাইটার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই যুদ্ধবিমান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা প্রয়োজন।’’

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের সামনে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনসহ বিভিন্ন উৎসের বিকল্প রয়েছে। তুলনামূলক মূল্য, সক্ষমতা এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করে চীনা বিকল্পটি সরকারের কাছে সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘সমমানের সক্ষমতা তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া সম্ভব—এটিও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সরকার মনে করছে।’’

তবে যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘‘অতীতে মিগ-২৯ কেনাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ ও মামলা হয়েছিল। সরকার সে অভিজ্ঞতাও মাথায় রাখবে।’’

‘‘এটি কোনও আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন কেনাকাটা নয়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ,’’ বলেন তিনি।