প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে। বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। এতে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬-৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ৮ জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যসমূহ যেমন— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
রুফটপ সোলার স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।’
সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, ওই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।’