স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের (সাদপন্থি) সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মনিটর করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের (সাদপন্থি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।