যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সুফল কী, সংসদে প্রশ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা জানতে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে লিখিত প্রশ্নে তিনি এ তথ্য জানতে চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। ওই বছরের এপ্রিলে এর সঙ্গে আরও ৩৭ শতাংশ রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ আরোপ করা হয়। এতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত মোট শুল্কের হার গড়ে প্রায় ৫২ শতাংশে দাঁড়ায়।

পরবর্তীকালে সরকার ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) সঙ্গে নেগোসিয়েশন শুরু হয়। নেগোসিয়েশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর আরোপিত রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রস্তুত করা পোশাক পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ক্ষেত্রে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ কমানোর একটি বিধানও এআরটিতে রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, পরে যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১-এর আওতায় ফোর্সড লেবার-সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনা করে। ফোর্সড লেবারের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ না করা বা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর বিদ্যমান গড় এমএফএন শুল্কের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত থাকায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।