অডিট-ভীতি দূর করতে কর ব্যবস্থা সহজ হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

করদাতাদের মধ্যে থাকা অডিট-ভীতি দূর করতে কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘কর ব্যবস্থায় শুধু অডিট নয়, আরও অনেক বাধা রয়েছে। এসব বাধা দূর করে করদাতাদের সহজে কর দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’’

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিকাল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘‘সাধারণত করদাতাদের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে—একবার রিটার্ন জমা দিলে বা ভুলবশত সংশোধিত রিটার্ন জমা দিলে ফাইল অডিটে পড়বে এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হবে।’’ এই অডিট ভীতি দূর করা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কী ব্যবস্থা নিয়েছে—জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘করের আওতায় আসা নিয়ে দেশে এক ধরনের ভীতি রয়েছে। বিভিন্ন কারণে মানুষ করের আওতায় আসতে চায় না।’’ কর ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য তিনি ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘অডিটের বিষয়টি ছাড়াও করদাতাদের সামনে আরও অনেক বাধা রয়েছে। করদাতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভীতি ও হয়রানির আশঙ্কা করেন। এসব সমস্যা একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কর ব্যবস্থাকে সহজ করার কাজ চলছে।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘কর ব্যবস্থায় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের যারা কর আইন ও করনীতি প্রণয়ন করবেন এবং যারা তা বাস্তবায়ন করবেন—এই দুটি বিষয় আলাদা করা হবে।’’ অতীতে এই জায়গায় দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক করদাতা সহজে কর দিতে এগিয়ে আসেন।’’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। বিগত দিনে করের আওতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত না থাকায় দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। তাই কর ব্যবস্থাকে যত বেশি সহজ করা যাবে, তত বেশি মানুষ কর দিতে এগিয়ে আসবেন।’’