সরকারি সেবায় একই তথ্য বারবার দেওয়ার বিড়ম্বনা কমানোর উদ্যোগ

নাগরিকদের একই তথ্য বা নথি বারবার বিভিন্ন সরকারি দফতরে জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমাতে ‘ওয়ান্স-অনলি’ নীতির ভিত্তিতে সমন্বিত ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থায় একবার দেওয়া তথ্য আইনগত বিধান, তথ্যের গোপনীয়তা ও প্রয়োজনীয় সম্মতি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সেবায় পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এ প্রশ্ন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ‘ন্যাশনাল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম’, ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি (ইকেআইডি)’ এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এর ফলে নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে একই তথ্য বা নথি বারবার বিভিন্ন দফতরে জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে বলে জানান তিনি।

‘ওয়ান গভর্নমেন্ট ডিজিটাল সার্ভিস’ কাঠামোর বিষয়ে সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান্স-অনলি’ নীতির ভিত্তিতে সমন্বিত ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় একজন নাগরিক একবার কোনো তথ্য দিলে তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সেবায় পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনগত বিধান, তথ্যের গোপনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় সম্মতি নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাশনাল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম’, ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি (ইকেআইডি)’ এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় আন্তঃসংযোগ তৈরি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকসেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৯টি মন্ত্রণালয় ও ৮৩টি দফতরের ৪২৭টি ‘এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে।

সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে নিরাপদ ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ‘ন্যাশনাল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দফতরের তথ্যভান্ডার ও ডিজিটাল সেবাগুলো ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই)’ এবং নির্ধারিত ডেটা মানদণ্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে তথ্যের পুনর্ব্যবহার বাড়বে, সেবা প্রদানের সময় ও ব্যয় কমবে এবং সমন্বিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।