দেশে মিথ্যা মামলা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে— এমন দাবি সরকার করছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটছে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কোনও অনিয়ম, দুর্নীতি বা সমস্যা নেই, আমি এমন দাবি করি না। আমরা আসার পর সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে, এটাও বললে মিথ্যা বলা হবে। কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি না এগুলো ব্যাপক।’
কোনও ব্যক্তি অন্যায়ভাবে মামলা বা গ্রেফতারের শিকার হলে— বিচার বিভাগের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ নির্বাহী বিভাগের অংশ হিসেবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে যেতে পারেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করি, আদালত এখন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সেখানে তারা ন্যায়বিচার পাবেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরির উদ্দেশ্যই হলো— কোনও জায়গায় ভুল বা অন্যায় হলে অন্য জায়গা থেকে তার প্রতিকার পাওয়া।’’
তবে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারেরও রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের চেষ্টা থাকতে হবে এবং আমরা নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো। এ ধরনের ঘটনা যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।’’
জামিনসহ বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আদালত পৃথক রাষ্ট্রীয় অঙ্গ হওয়ায় নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’’
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিয়ে আপনারা রিপোর্ট করুন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকতাকে ফোর্থ এস্টেট বলা হয় এ কারণেই। এসব বিষয় প্রধান বিচারপতির নজরে এলে তিনি নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’’