কোনও আসনে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফিরে আসছে ‘না ভোট’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্র, হলফনামা, প্রতীক তালিকায় যেসব সংশোধন পরিপত্রের মাধ্যমে হয়েছিল, এবার এ সংক্রান্ত বিষয় গেজেট করে বিধিমালায় যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধন এনেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায়। আর এ সংশোধনের মধ্য দিয়ে কোনও আসনে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফিরে আসছে ‘না’ ভোট। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত বিধিমালায় এসব সংশোধন গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসরণে, ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধন করা হয়।

হলফনামায় প্রার্থীর নির্ভরশীলদের আয়কর তথ্য দেওয়া এবং জামিনে মুক্ত থাকলে আদালতের সত্যায়িত অনুলিপি দেওয়া ‘ঐচ্ছিক’ করা হয়েছে। আর আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোটের ব্যয় নির্বাহে নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং প্রার্থীর নির্ভরশীলদের আয়কর তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও ঐচ্ছিক করা হয়েছে।

বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে (ফরম-১) প্রার্থী অথবা নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আগে শুধু প্রার্থীর অ্যাকাউন্টর নম্বর ব্যবহার করা যেত।

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত প্রার্থী জামিনে মুক্ত হলে হলফনামায় জামিন পাওয়ার সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার বিধান ছিল (হলফনামা সংযুক্তি-১)। এবার সংশোধনী এনে তা ঐচ্ছিক করা হয়েছে; অর্থাৎ জামিনের কোনও কপি হলফনামায় না দিলেও চলবে।

ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে তার বিবরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে হলফনামায়। যার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ গঠিত হয়েছে, ওই আসামিকে অভিযুক্ত বুঝাবে—এ বিষয়টির ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন জমা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আরপিও সংশোধন করেছিল ইসি। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল, এনসিপিসহ নতুন দলের নিবন্ধন ও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিতের পর ইসির সংরক্ষিত প্রতীক তালিকা সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। সেইসঙ্গে কোন আসনে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফিরে এসেছে ‘না’ ভোট। 

তফসিল ঘোষণার দিন গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন এনে গেজেট হলেও পরে বিএনপিসহ অংশীজনের দাবির মধ্যে বেশকিছু বিষয় নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

ভোটের পরে ক্ষমতাসীন বিএনপি বেশকিছু উপজেলা গঠনসহ প্রশাসনিক বিন্যাস করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ ১১টি আসনের সীমানা পুননির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেট করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসির নেওয়া পদক্ষেপগুলো সংশোধন আকারে গেজেট করে বিধিমালাভুক্ত করা হয়।

২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন হবে। আগ্রহীদের জন্য মনোনয়নপত্র জমার শেষ রয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় তথ্য দেওয়া সহজ করা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার সুবিধার্থে করণিক ত্রুটি ও মার্কার ক্রমবিন্যাসেও সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক তালিকা বহাল রয়েছে।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় পরিপত্র দিয়ে যেসব বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছিল, তা সন্নিবেশিত করে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। বলা যায়, প্রার্থীদের তথ্য দেওয়া সহজ করতে এসব সংশোধনী এলো।