তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা এবং অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের অভাব নেই। কিন্তু সঠিক তথ্যের পাশাপাশি অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই ও দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তথ্য কমিশনের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ; অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে। তবে সেই তথ্য হতে হবে সঠিক, অপতথ্য কিংবা অসত্য তথ্য নয়। ভুল ও অসত্য তথ্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্য শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করার আগে সেটির সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অনেক সময় মানুষ নিজের অজান্তেই যাচাই না করে কোনও তথ্য শেয়ার বা প্রচার করেন। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।
গণমাধ্যমের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্য যাচাই করে জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদেরও তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে।
অপতথ্যের কারণে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তাদের হেয়-প্রতিপন্ন ও মানহানি করা হচ্ছে। সমাজকে এ ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি এখন থেকেই সতর্ক না হই এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিই, তাহলে অপতথ্য, অসত্য তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে পৃথিবী একদিন হুমকির মুখে পড়বে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় কাজ করতে হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান। আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ অন্যরাও আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা, অপতথ্য প্রতিরোধ, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য কমিশনের সচিব মো. শাহ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতরের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।