প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘায়ু নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রবীণদের দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলো সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণদের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলছে।

বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখলে সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা আরও সুরক্ষিত থাকবে।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।